প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে
ফেলনা উচ্চ বিদ্যালয়: জ্ঞানের আলোয় আলোকিত এক পথচলা
ফেলনা উচ্চ বিদ্যালয়: কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গ্রামীণ জনপদের মানসম্মত শিক্ষার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে এবং আজ পর্যন্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও চারিত্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস:
১৯৯৩ সাল—ফেলনা এলাকার শিক্ষানুরাগী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বুঝতে পারেন যে, এ অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের দূরবর্তী বিদ্যালয়ে পাঠানো কষ্টকর ও ব্যয়সাপেক্ষ। স্থানীয় শিক্ষার প্রসার ও সবার জন্য সহজলভ্য করতে একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ, ১৯৯৩ সালে ফেলনা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম থেকেই বিদ্যালয়টি ছিল স্থানীয়দের স্বপ্নের বাস্তবায়ন, আর আজ তা সফলভাবে জ্ঞানের বাতিঘর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অবস্থান ও পরিবেশ:
কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলাধীন মুন্সিরহাট ইউনিয়নে বিদ্যালয়টি অবস্থিত। গ্রামের শান্ত, মনোরম ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বিদ্যালয়টির শিক্ষার জন্য অত্যন্ত অনুকূল। চারপাশে সবুজের সমারোহ, নির্মল বাতাস ও নিস্পন্দ পরিবেশ পাঠদানের জন্য সহায়ক। বিদ্যালয়টি উপজেলা সদর থেকে যোগাযোগের মাধ্যমেও সহজলভ্য, তাই শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে কোনো উল্লেখযোগ্য সমস্যা নেই।
ভবন ও অবকাঠামো
বিদ্যালয়টির আধুনিক নকশায় নির্মিত একটি প্রশস্ত একাডেমিক ভবন রয়েছে। যা মোটামুটি ১২-১৫টি কক্ষ নিয়ে গঠিত। এখানে রয়েছে—
- শ্রেণীকক্ষসমূহ: যথাযথ আলো-বাতাস ও চেয়ার-টেবিল
- অফিস কক্ষ ও সভাকক্ষ
- শিক্ষক মিলনায়তন
- লাইব্রেরি: পাঠাগারে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্য ও সহায়ক বই
- বিজ্ঞানাগার: ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য প্রাথমিক যন্ত্রপাতি
- কমনরুম ও খেলার মাঠ
- মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম
-ডিজিটাল হাজিরা
-প্রশাসনিক এলাকা ও শিক্ষার্থীদের বসার স্থান পরিপাটি ও পরিচ্ছন্ন রাখা হয়।
শিক্ষা কার্যক্রম
বিদ্যালয়টি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করে। শিক্ষার মাধ্যম বাংলা এবং বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা —তিনটি বিভাগ চালু আছে উচ্চ শ্রেণিতে। পাশাপাশি, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নানা সৃজনশীল, আনুষঙ্গিক ও মূল্যবোধভিত্তিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত।
পাঠ্যক্রমের বাইরে:
- সাপ্তাহিক বিতর্ক ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা
- বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান
- বিজ্ঞান মেলা ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা
- নৈতিকতা ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেশন
শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থী
বিদ্যালয়ে অভিজ্ঞ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দেশপ্রেমিক শিক্ষকমণ্ডলীর সমন্বয়ে পাঠদান করা হয়। শিক্ষকরা নিষ্ঠার সাথে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটান। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০০-এর উপরে, যা প্রতিবছর বাড়ছে। ছাত্র-ছাত্রীর অনুপাত প্রায় সমান। প্রাক-প্রাথমিক থেকে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যন্ত বিদ্যালয়টি এতটুকু এলাকার অন্যতম শিক্ষাকেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
সহশিক্ষা ও কৃতি শিক্ষার্থী
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করে সাফল্য অর্জন করেছে। পাঁচবারের মতো বিদ্যালয়ের দল বিজ্ঞান মেলা ও ক্রীড়া ইভেন্টে পুরস্কৃত হয়েছে।
এছাড়া, ফেলনা উচ্চ বিদ্যালয়ের বহু প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজ শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, চাকরিজীবী ও উদ্যোক্তা হিসেবে দেশ ও সমাজের সেবা করছেন, যা বিদ্যালয়ের সাফল্যের বড় প্রমাণ।
জেএসসি ও এসএসসি পাসের হার
বিদ্যালয়টির পাসের হার সন্তোষজনক। এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিতভাবে ৭০-৮৫% শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়, এবং অনেকেই এ+, জিপিএ-৪ ও জিপিএ-৫ সহ মেধার স্বাক্ষর রাখে। পাশাপাশি জেএসসি পর্যায়ে বিদ্যালয়ের ফলাফল আশানুরূপ, যা শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিকের ভিত্তি গড়ে দেয়।
অভিভাবক ও স্থানীয় সম্পৃক্ততা
বিদ্যালয়ের উন্নয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ ও অভিভাবক সভা নিয়মিত আয়োজিত হয়। এসকল সভায় বিদ্যালয়ের সমস্যা, সমাধান ও ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী অনুদানে বিদ্যালয়ের কিছু উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রশাসনের স্বপ্ন — বিদ্যালয়টিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে:
- উচ্চ মাধ্যমিক শাখা চালু করা
- কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন ও আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা
- সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ও বিজ্ঞানাগার সম্প্রসারণ
- বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির ব্যবস্থা প্রবর্তন
- ক্রীড়া সামগ্রী ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন
যোগাযোগের ঠিকানা
ফেলনা উচ্চ বিদ্যালয়
গ্রাম: ফেলনা, পোস্ট: খিরনশাল সদর
উপজেলা: চৌদ্দগ্রাম, জেলা: কুমিল্লা
উপসংহার
ফেলনা উচ্চ বিদ্যালয় তার ৩ দশকের বেশি সময়ের পথচলায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলেছে। এটি একসময় প্রান্তিকতার অন্ধকার কাটিয়ে আজ দক্ষ ও নৈতিক নাগরিক তৈরির ব্রতে নিবেদিত। বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই ইতিহাস, অর্জন ও গৌরবগাথা যত বর্ণময় হয়ে উঠবে, ততই বাড়বে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আস্থা। জ্ঞানের চিরন্তন ধারায় ফেলনা উচ্চ বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক — এই প্রত্যাশা।